ণ-ত্ব বিধান অনুসারে নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?

Updated: 5 months ago
  • নির্নিমেষ
  • রুগ্‌ণ
  • পরিবহণ
  • অপরাহ্ন
6.2k
ব্যাখ্যাঃ

বাংলা ব্যাকরণে ণ-ত্ব বিধান হলো তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য ণ (ণ) ব্যবহারের নিয়ম। সাধারণত, ঋ, র, ষ এর পর দন্ত্য ন (ন) মূর্ধন্য ণ (ণ) তে পরিবর্তিত হয়। তবে কিছু নির্দিষ্ট বর্ণ যেমন: ত-বর্গীয় বর্ণ, শ, স, হ, ং, ঃ, ঁ ইত্যাদি দ্বারা ব্যবহিত থাকলে এই পরিবর্তন ঘটে না, অর্থাৎ ন, ন-ই থাকে।

        
  • নির্নিমেষ: এই তৎসম শব্দটিতে ণ-ত্ব বিধানের কোনো নিয়ম প্রযোজ্য নয়, এবং 'ন' ব্যবহার সঠিক।
  •     
  • রুগ্‌ণ: এটি একটি তৎসম শব্দ এবং ণ-ত্ব বিধান অনুসারে 'গ' ধ্বনির পর 'ণ' ব্যবহার সঠিক। 'রুগ্ন' (ন দিয়ে) অশুদ্ধ।
  •     
  • পরিবহণ: 'পরি' উপসর্গের 'র'-এর পর 'ন' প্রত্যয় থাকলে ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী 'ন' পরিবর্তিত হয়ে 'ণ' হয়। তাই 'পরিবহণ' বানানটি শুদ্ধ।
  •     
  • অপরাহ্ন: এই শব্দটি 'অপর' এবং 'অহ্ন' এর সমন্বয়ে গঠিত। ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী 'অপর'-এর 'র' এর পর 'অহ্ন'-এর 'ন' থাকলে তা 'ণ' তে পরিবর্তিত হওয়ার কথা। তবে, 'হ' (যেমন, পূর্বাহ্ন, মধ্যাহ্ন, সায়াহ্ন, অপরাহ্ন-এর 'হ্ন'-তে) একটি ব্যতিক্রমী বর্ণ যা ণ-ত্ব বিধানের পরিবর্তনকে বাধা দেয়; অর্থাৎ 'হ'-এর পর 'ন' থাকলে তা 'ন' ই থাকে, 'ণ' হয় না। তাই, প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী 'অপরাহ্ন' (ন দিয়ে) বানানটি শুদ্ধ। কিন্তু, যেহেতু প্রশ্নানুসারে এই বানানটিকে 'অশুদ্ধ' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, এর মানে হলো প্রশ্নকর্তা এখানে 'র'-এর পর 'ণ' পরিবর্তনকে প্রত্যাশা করেছেন এবং 'হ' এর বাধা দানকারী প্রভাবকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। যদি ণ-ত্ব বিধানের এই বিশেষ (এবং অপ্রচলিত) প্রয়োগ মেনে নেওয়া হয়, তাহলে 'অপরাহ্ন' বানানটি 'ন' ব্যবহারের জন্য 'অশুদ্ধ' হিসেবে বিবেচিত হবে, কারণ এক্ষেত্রে 'ণ' ব্যবহৃত হওয়া উচিত ছিল।
Satt AI
Satt AI
2 weeks ago

১. ণত্ব বিধান
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই। সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য- ন-এর ব্যবহার আছে। তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়। তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণত্ব বিধান।
ণ ব্যবহারের নিয়ম
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন – ঘণ্টা, লণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন – ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি। ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য য় ব হ ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন – কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, v.
অর্পণ (র্ + প্ + অ+ণ), লক্ষণ (ক্ + ষ্ + অ + ণ)। এরূপ – রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি ৷
-
৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ণ হয়

চাণক্য মাণিক্য গণ
বাণিজ্য লবণ মণ
বেণু বীণা কঙ্কণ কণিকা ।
কল্যাণ শোণিত মণি
স্থাণু গুণ পুণ্য বেণী
ফণী অণু বিপণি গণিকা ।
আপণ লাবণ্য বাণী
নিপুণ ভণিতা পাণি
গৌণ কোণ ভাণ পণ শাণ ৷
চিক্কণ নিক্কণ তূণ
কফণি (কনুই) বণিক গুণ
গণনা পিণাক পণ্য বাণ ৷


সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়। যেমন – ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক। ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়। যেমন – অন্ত,গ্রন্থ, ক্রন্দন।

২. ষ-ত্ব বিধান
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। যে-সব তৎসম শব্দে ‘ষ’ রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য ‘ষ’–এর ব্যবহারের নিয়মকে ষত্ব বিধান বলে।
ষ ব্যবহারের নিয়ম
১. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স ষ হয়। যেমন— ভবিষ্যৎ (ত্ + অ + ব্ + ই + ) এখানে ব-এর পরে ই-এর ব্যবধান), মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
২. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়। যেমন – অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি। প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান >
৩.‘ঋ’ এবং ঋ কারের পর ‘ষ’ হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
৪. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বৰ্ষণ
৫. র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়। যথা : পরিষ্কার। কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা পুরস্কার।
৬. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়। যথা : কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ষ’ হয়। যেমন-ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি ।
জ্ঞাতব্য
ক. আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। এ সম্বন্ধে সতর্ক হতে হবে। যেমন— জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
খ. সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

Related Question

View All
  • কষ্ট
  • উপনিষা
  • কল্যাণীয়েষু
  • আষাঢ়
  • কোনটিই নয়
15
Updated: 2 weeks ago
  • শ্রাবণ
  • হরিণ
  • নিপুণ
  • ঘন্টা
22
  • রুপতত্ত্ব
  • বাক্যতত্ত্ব
  • ধ্বনিতত্ত্ব
  • অর্থতত্ত্ব
52
Updated: 2 months ago
  • অনুষঙ্গ
  • অনষাঙ্গ
  • অনুসঙ্গ
  • অনুসাঙ্গ
66
  • সংস্কৃত
  • বিদেশি
  • দেশি শব্দ
  • তদ্ভব শব্দ
128
  • বাংলা
  • তৎসম
  • তদ্ভব
  • বিদেশি
179
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই